রেশম চাষে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম ফ্ল্যাশেরি। এই ভাইরাসজনিত রোগ রেশমকীটের মৃত্যুহার বেশ বাড়িয়ে তোলে এবং রেশম উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়। ফ্ল্যাশেরি আসলে একটি সাধারণ শব্দ যা বিভিন্ন ভাইরাস ঘটিত রোগের একগুচ্ছ লক্ষণকে বোঝায়। এই রোগের প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন প্রকারের ভাইরাস, যেমন Bombyx mori infectious flacherie virus (BmIFV) এবং Bombyx mori densovirus (BmDNV)। এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং অনুপযুক্ত পালনপদ্ধতির কারণে।
ফ্ল্যাশেরির লক্ষণ
ফ্ল্যাশেরি আক্রান্ত রেশমকীটের শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথম দিকে কীটগুলির খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, তারা অলস হয়ে পড়ে এবং পাতায় ঠিকমত আঁকড়ে থাকতে পারে না। পরবর্তীতে তাদের শরীর ফুলে যায়, মল তরল হয়ে যায় এবং শরীরের রঙ ধীরে ধীরে সাদাটে হয়ে আসে। অবশেষে কীটগুলি পাতা থেকে ঝুলে পড়ে মারা যায়।
রোগের কারণ
বিভিন্ন কারণে ফ্ল্যাশেরি রোগ হতে পারে। তার মধ্যে প্রধান কারণগুলি হলো:
- ভাইরাস: BmIFV এবং BmDNV ইত্যাদি ভাইরাস এই রোগের প্রধান কারণ।
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা এই রোগের প্রকোপ বাড়ায়।
- অনুপযুক্ত খাদ্য: নষ্ট বা জীবাণুযুক্ত তুঁত পাতা খাওয়ালে এই রোগ হতে পারে।
- তাপমাত্রার উঠা-নামা: তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন রেশমকীটের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে আনে।
প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
ফ্ল্যাশেরি রোগ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:
| প্রতিরোধ ব্যবস্থা | বর্ণনা |
|---|---|
| পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা | রেশমকীট পালনের ঘর এবং পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। |
| উন্নত মানের তুঁত পাতা | রেশমকীটকে সতেজ এবং জীবাণুমুক্ত তুঁত পাতা খাওয়াতে হবে। |
| তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ | রেশমকীট পালনের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। |
| রোগাক্রান্ত কীট অপসারণ | রোগাক্রান্ত কীট চিহ্নিত করে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে। |
উপসংহার
ফ্ল্যাশেরি রেশম চাষের একটি গুরুতর সমস্যা। সঠিক পরিচর্যা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রেশম চাষীদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


