রেশম, বিলাসব্যঞ্জন এবং মার্জিত এই বস্ত্রটি আমাদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এর উৎস কি? হ্যাঁ, সঠিক ধারণা করেছেন। রেশম আমাদের কাছে আসে রেশমকীট থেকে। এই প্রাকৃতিক তন্তুর পেছনে রয়েছে ক্ষুদ্র এই পোকার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আজ আমরা বিস্তারে জানবো।
রেশমকীটের জীবনচক্র
রেশম উৎপাদনের মূল ভূমিকা পালন করে রেশমকীট, যার বৈজ্ঞানিক নাম Bombyx mori। এর জীবনচক্র চারটি পর্যায়ে বিভক্ত: ডিম, লার্ভা (শূককীট), পিউপা (মূককীট) এবং প্রাপ্তবয়স্ক পতঙ্গ। শূককীট পর্যায়ে তুঁত পাতা খেয়ে তারা অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
রেশম তন্তু উৎপাদন
পিউপা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে শূককীট নিজের চারপাশে একটি রক্ষাকবচ তৈরি করে যা রেশম তন্তু দিয়ে গঠিত। এই তন্তু তৈরি হয় এক ধরনের প্রোটিন থেকে যা শূককীটের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এই তন্তু বায়ুর সংস্পর্শে এসে শক্ত হয়ে যায়।
রেশম সংগ্রহ
রেশম সংগ্রহের জন্য গরম জল বা বাষ্প ব্যবহার করে পিউপাটিকে মেরে ফেলা হয়। এরপর রেশম তন্তুগুলিকে পরিষ্কার করে একত্রে রেলিং করে সুতা তৈরি করা হয়। একটি মাত্র রেশম কোকুন থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৯০০ মিটার পর্যন্ত লম্বা তন্তু পাওয়া যায়!
রেশমের বিভিন্ন প্রকার
| রেশমের প্রকার | উৎস | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| মালবেরি রেশম | Bombyx mori | নরম, চকচকে, সবচেয়ে ব্যবহৃত |
| টাসার রেশম | Antheraea mylitta | মোটা, ম্যাট, সাধারণত বাদামী বা সোনালী রঙের |
| এরি রেশম | Samia cynthia ricini | মোটা, উষ্ণ, কম চকচকে |
| মুগা রেশম | Antheraea assamensis | সোনালী রঙের, টেকসই |
রেশম শিল্প
রেশম শিল্প বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলিতে, যেমন চীন, ভারত, বাংলাদেশ, এই শিল্প প্রসার লাভ করেছে।
রেশমের উৎপাদন এক জটিল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি এক মূল্যবান বস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। ক্ষুদ্র রেশমকীট থেকে প্রাপ্ত এই তন্তু শুধুমাত্র পোশাক তৈরিতেই ব্যবহৃত হয় না, এটি বিভিন্ন শিল্প ও কারুশিল্পে ও ব্যবহৃত হয়। রেশমের মূল্য এবং ব্যবহার এর উৎপাদন প্রক্রিয়া বুঝলে আরও বেশি স্পষ্ট হয়।


