মাকড়সা এবং রেশমকীট, দু’টিই তাদের তৈরি করা রেশমের জন্য বিখ্যাত। তবে তাদের রেশম তৈরির পদ্ধতি এবং রেশমের গুণাগুণে রয়েছে অনেক পার্থক্য। এই প্রবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে এই দুই প্রাণী রেশম তৈরি করে এবং তাদের রেশমের মধ্যে পার্থক্য কী।
মাকড়সার রেশম তৈরির পদ্ধতি
মাকড়সা তাদের উদরে অবস্থিত স্পিনারেট নামক বিশেষ গ্রন্থি থেকে রেশম তৈরি করে। প্রতিটি মাকড়সার অনেকগুলি স্পিনারেট থাকে এবং প্রতিটি স্পিনারেট বিভিন্ন ধরণের রেশম উৎপন্ন করতে পারে। মাকড়সারা তাদের জাল বোনা, শিকার ধরা, আত্মরক্ষা, এবং প্রজননের জন্য বিভিন্ন ধরণের রেশম ব্যবহার করে। তরল অবস্থায় উৎপন্ন রেশম বাতাসের সংস্পর্শে এসে শক্ত হয়ে যায়।
রেশমকীটের রেশম তৈরির পদ্ধতি
রেশমকীট মূলত রেশম পোকার লার্ভা অবস্থা। এরা তাদের মুখের সামনের দিকে অবস্থিত এক জোড়া গ্রন্থি থেকে তরল রেশম উৎপন্ন করে। এই তরল রেশম বাতাসের সংস্পর্শে শক্ত হয়ে একটি কোকুন তৈরি করে, যার মধ্যে পিউপা অবস্থায় তারা কাটায় তাদের পরিবর্তনের কাল। আমরা যে রেশম ব্যবহার করি তা এই কোকুন থেকেই পাওয়া যায়।
মাকড়সা এবং রেশমকীটের রেশমের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | মাকড়সার রেশম | রেশমকীটের রেশম |
|---|---|---|
| শক্তি | অত্যন্ত শক্তিশালী | তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী |
| নমনীয়তা | অত্যন্ত নমনীয় | তুলনামূলকভাবে কম নমনীয় |
| উৎপাদন | জটিল এবং ব্যয়বহুল | তুলনামূলকভাবে সহজ এবং কম ব্যয়বহুল |
| ব্যবহার | বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মেডিকেল টেক্সটাইল | পোশাক, গৃহস্থালী সামগ্রী |
রেশমের ব্যবহার
রেশমকীটের রেশম বহুকাল ধরে পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মাকড়সার রেশমের বিভিন্ন ব্যবহার আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন, যেমন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মেডিকেল ইমপ্লান্ট ইত্যাদি।
মাকড়সা এবং রেশমকীট উভয়ই প্রাকৃতিকভাবে রেশম উৎপাদন করে, তবে তাদের উৎপাদন পদ্ধতি এবং রেশমের গুণাগুণে বৈচিত্র্য রয়েছে। মাকড়সার রেশম অধিক শক্তিশালী এবং নমনীয় হলেও, ব্যবহারিক কারণে রেশমকীটের রেশম বেশি ব্যবহৃত হয়। ভবিষ্যতে মাকড়সার রেশমের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।


