টুসাহাটিকে "রেশমের রাজা" বলা হয়, আর এই রাজার রাজ্যপাট চলে এক অদৃশ্য সেনাবাহিনীর মাধ্যমে, যার নাম ট্যাক্সিস। এই ট্যাক্সিস আসলে রাসায়নিক পদার্থ, যা তুঁত গাছের পাতা থেকে শুরু করে রেশমের সুতো পর্যন্ত, পুরো রেশম উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুঁত পাতার গন্ধ থেকে শুরু করে, কোকুন তৈরির আদর্শ স্থান নির্বাচন, এমনকি সঙ্গীর সন্ধান — সবকিছুতেই এই রাসায়নিক পদার্থের অবদান অনস্বীকার্য। আমরা এই আর্টিকেলে টুসাহাটিকের ট্যাক্সিসের বিভিন্ন দিক, এর প্রভাব এবং গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো।
ট্যাক্সিসের প্রকারভেদ
টুসাহাটিকের ট্যাক্সিসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
| প্রকার | বর্ণনা | উৎস |
|---|---|---|
| অলফ্যাক্টরি ট্যাক্সিস | ঘ্রাণ-নির্ভর ট্যাক্সিস। তুঁত পাতার গন্ধই এই ট্যাক্সিসের প্রধান উৎস। | তুঁত পাতা |
| কন্টাক্ট ট্যাক্সিস | স্পর্শ-নির্ভর ট্যাক্সিস। কোকুন তৈরির উপযুক্ত স্থান নির্বাচনে এই ট্যাক্সিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। | তুঁত গাছের পাতা, ডাল, কাণ্ড |
খাদ্যগ্রহণে ট্যাক্সিসের ভূমিকা
তুঁত গাছের পাতার নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক উপাদান, যেমন cis-jasmone এবং morin, টুসাহাটিকে আকৃষ্ট করে। এই রাসায়নিক পদার্থগুলো টুসাহাটিকে তুঁত পাতার সন্ধান করতে এবং খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে।
প্রজননে ট্যাক্সিসের ভূমিকা
মিলনের সময় স্ত্রী টুসাহাটি বোম্বাইকল নামক এক ধরনের ফেরোমোন নিঃসরণ করে, যা পুরুষ টুসাহাটিকে আকর্ষণ করে। এই ফেরোমোনের সাহায্যেই পুরুষ টুসাহাটি স্ত্রী টুসাহাটিকে খুঁজে পায়।
কোকুন তৈরিতে ট্যাক্সিসের ভূমিকা
কোকুন তৈরির জন্য টুসাহাটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে। এই স্থান নির্বাচনে কন্টাক্ট ট্যাক্সিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টুসাহাটি এমন জায়গা পছন্দ করে যেখানে সে নির্বিঘ্নে কোকুন তৈরি করতে পারবে।
ট্যাক্সিস গবেষণার গুরুত্ব
টুসাহাটিকের ট্যাক্সিস নিয়ে গবেষণা রেশম উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃত্রিমভাবে ফেরোমোন তৈরি করে টুসাহাটিকের প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। এছাড়া, ট্যাক্সিসের সাহায্যে টুসাহাটিকে নির্দিষ্ট খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করা যেতে পারে, যা রেশমের গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, টুসাহাটিকের ট্যাক্সিস একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত আকর্ষণীয় বিষয়। এই রাসায়নিক পদার্থগুলো টুসাহাটিকের জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্যাক্সিস নিয়ে আরও গবেষণার মাধ্যমে রেশম শিল্পে আরও উন্নতি সাধন সম্ভব।


