উলের তৈরি গালিচা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, তবে সময়ের সাথে সাথে এগুলো মলিন এবং দাগযুক্ত হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ধোলাই করলেই গালিচার আগের রূপ ফিরে পাওয়া সম্ভব। তবে উল একটি সূক্ষ্ম তন্তু, তাই ব্লিচ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করলে গালিচা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই নিবন্ধে আমরা উলের গালিচা ব্লিচ করার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ব্লিচ করার আগে কিছু জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন।
| উপকরণ | পরিমাণ | ব্যবহার |
|---|---|---|
| অক্সিজেন ব্লিচ | গালিচার আকার অনুযায়ী | উলের জন্য নিরাপদ |
| ঠান্ডা পানি | প্রয়োজন অনুযায়ী | গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না |
| মৃদু ডিটারজেন্ট | সামান্য পরিমাণ | কঠোর রাসায়নিকযুক্ত ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা যাবে না |
| স্পঞ্জ/ নরম ব্রাশ | ১ টি | স্ক্রাব করার জন্য |
| গ্লাভস | ১ জোড়া | হাত সুরক্ষার জন্য |
| বালতি/ টাব | ১ টি | ব্লিচ মিশ্রণ তৈরি করার জন্য |
ব্লিচ করার পদ্ধতি
প্রথমে গালিচা ভালো করে ঝেড়ে ধুলোবালি পরিষ্কার করতে হবে। একটি বালতিতে ঠান্ডা পানি নিয়ে তাতে অক্সিজেন ব্লিচ এবং ডিটারজেন্ট মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ ব্লিচ ব্যবহার করতে হবে। এরপর স্পঞ্জ বা নরম ব্রাশ ব্যবহার করে ব্লিচের দ্রবণটি গালিচার উপর লাগাতে হবে। গোটা গালিচায় ব্লিচ লাগানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। তারপর প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা পানি দিয়ে গালিচা ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে যাতে কোন ব্লিচ অবশিষ্ট না থাকে।
শুকানোর পদ্ধতি
ব্লিচ করার পর গালিচা সরাসরি রোদে শুকানো যাবে না। ছায়ায় বা ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ফ্ল্যাট করে শুকাতে হবে। গালিচা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার আগে এটি ঘষা বা মোচড়ানো যাবে না।
উলের গালিচা ব্লিচ করা একটি সূক্ষ্ম কাজ। সঠিক পদ্ধতি এবং সাবধানতা অবলম্বন করলে গালিচার আয়ু বৃদ্ধি পায় এবং এর সৌন্দর্য অনেকদিন বজায় থাকে। তবে যদি আপনার মনে কোন সন্দেহ থাকে, তাহলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।


