ঘরে ঢুকেই যদি পরিপাটি করে সাজানো একটি বিছানা চোখে পড়ে, মনটা আপনাতেই ভালো হয়ে যায়। শুধু সুন্দর চাদর বিছানো থাকলেই কিন্তু বিছানা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে না। এর সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় কয়েকটি সুন্দর বালিশের সঠিক ব্যবহার। বালিশ শুধু আরামের জন্য নয়, এটি আপনার বেডরুমের সাজসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও বটে। বিভিন্ন আকারের, রঙের এবং ধরনের বালিশ ব্যবহার করে আপনি আপনার বিছানাকে একটি নতুন রূপ দিতে পারেন। আসুন, আজ আমরা জেনে নিই কীভাবে বালিশ দিয়ে আপনার বিছানাকে আকর্ষণীয় করে তুলবেন।
1. বালিশের সংখ্যা নির্বাচন
বিছানায় কতগুলো বালিশ রাখবেন, তা নির্ভর করে আপনার বিছানার আকার এবং আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর। তবে একটি সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা যেতে পারে:
| বিছানার আকার | বালিশের সংখ্যা (সাজানোর জন্য) | বালিশের সংখ্যা (শোয়ার জন্য) |
|---|---|---|
| সিঙ্গেল বেড | ২-৩টি | ১টি |
| ডাবল বেড | ৪-৬টি | ২টি |
| কুইন বেড | ৫-৭টি | ২টি |
| কিং বেড | ৬-৮টি | ২টি |
তবে, শুধু এই সংখ্যাটিই শেষ কথা নয়। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারেন।
2. বালিশের আকার ও ধরন নির্বাচন
বিভিন্ন আকারের বালিশ ব্যবহার করলে আপনার বিছানায় একটি দৃষ্টিনন্দন লেয়ার তৈরি হবে। কিছু জনপ্রিয় বালিশের আকার ও ধরন নিচে উল্লেখ করা হলো:
-
ইউরোপীয়ান স্কয়ার বালিশ (European Square Pillows): এই বালিশগুলো সাধারণত ২৬x২৬ ইঞ্চি আকারের হয় এবং বিছানার পেছনের দিকে ব্যবহার করা হয়। এগুলো বিছানাকে একটি জমকালো লুক দেয়।
-
স্ট্যান্ডার্ড বালিশ (Standard Pillows): ২০x২৬ ইঞ্চি আকারের এই বালিশগুলো শোয়ার জন্য খুবই আরামদায়ক।
-
কুইন বালিশ (Queen Pillows): ২০x৩০ ইঞ্চি আকারের এই বালিশগুলো স্ট্যান্ডার্ড বালিশের চেয়ে একটু বড় এবং কুইন সাইজের বিছানার জন্য উপযুক্ত।
-
কিং বালিশ (King Pillows): ২০x৩৬ ইঞ্চি আকারের এই বালিশগুলো কিং সাইজের বিছানার জন্য আদর্শ।
-
লাম্বার বালিশ (Lumbar Pillows): এই বালিশগুলো সাধারণত লম্বাটে আকারের হয় এবং বিছানার সামনের দিকে ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে।
-
নভেলটি বালিশ (Novelty Pillows): বিভিন্ন আকার ও আকৃতির এই বালিশগুলো আপনার বিছানায় একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
3. বালিশের কভার নির্বাচন
বালিশের কভার আপনার বিছানার সাজসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কভার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে পারেন:
-
রঙ: আপনার বেডরুমের দেয়ালের রঙ এবং অন্যান্য আসবাবপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে বালিশের কভার নির্বাচন করুন। কনট্রাস্ট তৈরি করতে চাইলে বিপরীত রঙের কভারও ব্যবহার করতে পারেন।
-
ডিজাইন: বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন যেমন ফ্লোরাল, জ্যামিতিক বা অ্যাবস্ট্রাক্ট ডিজাইন-এর কভার পাওয়া যায়। আপনার পছন্দের ডিজাইন বেছে নিতে পারেন।
-
কাপড়: বালিশের কভারের কাপড় আরামদায়ক হওয়া উচিত। সুতি, লিনেন, সিল্ক ইত্যাদি কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। সিল্কের কভার ঘুমের জন্য খুবই আরামদায়ক এবং ত্বকের জন্যও ভালো। বিশেষ করে PandaSilk এর মত ব্র্যান্ডের সিল্কের বালিশের কভার ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপযোগী।
4. বালিশ সাজানোর নিয়ম
বালিশ সাজানোর কিছু সাধারণ নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
- প্রথমে বড় আকারের বালিশগুলো (যেমন ইউরোপীয়ান স্কয়ার বালিশ) বিছানার পেছনের দিকে রাখুন।
- এরপর মাঝারি আকারের বালিশগুলো (যেমন স্ট্যান্ডার্ড বা কুইন বালিশ) রাখুন।
- সবশেষে ছোট আকারের বালিশগুলো (যেমন লাম্বার বা নভেলটি বালিশ) সামনের দিকে রাখুন।
বালিশগুলো এমনভাবে সাজান যাতে একটি লেয়ার তৈরি হয় এবং দেখতে সুন্দর লাগে। আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী বালিশের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।
5. বালিশের যত্ন
বালিশের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। নিয়মিত বালিশের কভার ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। বালিশগুলোকে মাঝে মাঝে রোদে দিন যাতে ভেতরের জীবাণু মরে যায়। বালিশের ভেতরের উপাদান যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বালিশ পরিবর্তন করুন।
বালিশ দিয়ে আপনার বেডরুমকে সাজানো একটি সহজ উপায়। সঠিক বালিশ নির্বাচন এবং সুন্দরভাবে সাজানোর মাধ্যমে আপনি আপনার বিছানাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। তাই, আর দেরি না করে আজই আপনার বিছানাকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলুন। একটি সুন্দর ও গোছানো বিছানা আপনার মনে শান্তি এনে দেবে এবং আপনার ঘুমকে আরও গভীর করবে।


