বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরের নানা পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে ঘুমের ধরণ ও গুণগত মানের পরিবর্তন অন্যতম। শিশুকাল থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত ঘুমের প্যাটার্নে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এই পরিবর্তনগুলো কেবল ঘুমের পরিমাণের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, ঘুমের গভীরতা, ঘুম চক্র এবং ঘুম সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রবণতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ঘটে।
শিশুদের ঘুম
নবজাতক শিশুরা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটায়, প্রায় ১৬-১৭ ঘন্টা। তাদের ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচী থাকে না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঘুমের সময় কমতে থাকে এবং ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি হতে থাকে।
কিশোরদের ঘুম
কৈশোরে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে তাদের প্রায় ৯-১০ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে হরমোনের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সামাজিক কারণে তারা প্রায়ই ঘুম বঞ্চিত হয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুম
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। এই সময়ে ঘুমের গভীরতা কমতে শুরু করে এবং ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
বয়স্কদের ঘুম
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘুমের প্যাটার্নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। তারা রাতে ঘুমাতে কষ্ট পান, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় এবং সকাল সকাল জেগে যান। তাদের ঘুমের গভীরতা অনেক কমে যায় এবং REM ঘুমের পরিমাণও কমে যায়।
বিভিন্ন বয়সে ঘুমের পরিমাণ
| বয়স | ঘুমের পরিমাণ (ঘন্টা) |
|---|---|
| নবজাতক (০-৩ মাস) | ১৪-১৭ |
| শিশু (৪-১১ মাস) | ১২-১৫ |
| শিশু (১-২ বছর) | ১১-১৪ |
| প্রাক-শৈশব (৩-৫ বছর) | ১০-১৩ |
| শিশু (৬-১৩ বছর) | ৯-১১ |
| কিশোর (১৪-১৭ বছর) | ৮-১০ |
| যুবক (১৮-২৫ বছর) | ৭-৯ |
| প্রাপ্তবয়স্ক (২৬-৬৪ বছর) | ৭-৯ |
| বয়স্ক (৬৫+) | ৭-৮ |
বয়সের সাথে ঘুমের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে ঘুমের মান ও পরিমাণের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটলে তা বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। সুতরাং, বয়স ভেদে ঘুমের ধরণ বুঝে সে অনুযায়ী জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং ঘুমের একটি নিয়মিত রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।


