রেশম শিল্পে রেশম গুটির শ্রেণীবিভাগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উৎপাদিত রেশমের গুণমান, পরিমাণ এবং ব্যবহার নির্ভর করে গুটির মানের উপর। সঠিক শ্রেণীবিভাগের মাধ্যমে উৎকৃষ্ট রেশম উৎপাদন সম্ভব হয় এবং বাজারে তার সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা যায়। এই প্রবন্ধে আমরা রেশম গুটির বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ পদ্ধতি এবং এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আকার অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ
গুটির আকারের উপর ভিত্তি করে এদেরকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়: বৃহৎ, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র। বৃহৎ আকারের গুটি থেকে বেশি রেশম পাওয়া যায়, তবে এর মান মাঝারি আকারের গুটির তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে।
| আকার | গড় ওজন (গ্রাম) | রেশমের পরিমাণ |
|---|---|---|
| বৃহৎ | ২.০ – ২.৫ | বেশি |
| মাঝারি | ১.৫ – ২০ | মাঝারি |
| ক্ষুদ্র | ১.০ – ১.৫ | কম |
রঙ অনুযারী শ্রেণীবিভাগ
রেশম গুটি বিভিন্ন রঙের হতে পারে, যেমন সাদা, হলুদ, এবং কমলা। রেশমের রঙ তার গুণমান এবং ব্যবহারের উপর প্রভাব ফেলে। সাদা রঙের রেশম সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন।
| রঙ | ব্যবহার | চাহিদা |
|---|---|---|
| সাদা | উচ্চমানের পোশাক | বেশি |
| হলুদ | সাধারণ পোশাক | মাঝারি |
| কমলা | বিশেষ ধরণের পোশাক | কম |
আকৃতি অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ
গুটির আকৃতি গোলাকার, ডিম্বাকার, অথবা অনিয়মিত হতে পারে। গোলাকার গুটি থেকে উৎকৃষ্ট রেশম পাওয়া যায়।
| আকৃতি | রেশমের গুণমান |
|---|---|
| গোলাকার | উচ্চ |
| ডিম্বাকার | মাঝারি |
| অনিয়মিত | নিম্ন |
গুটির খোসার ঘনত্ব অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ
গুটির খোসার ঘনত্ব রেশমের পরিমাণ এবং গুণমান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘন খোসা বিশিষ্ট গুটি থেকে বেশি রেশম পাওয়া যায়।
রেশম গুটির সঠিক শ্রেণীবিভাগ রেশম শিল্পের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। এর মাধ্যমে উৎকৃষ্ট মানের রেশম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং রেশম চাষিদের আয় বৃদ্ধি সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গুটির শ্রেণীবিভাগ আরও সহজ এবং কার্যকর হবে বলে আশা করা যায়।


