শিশুর ঘুম নিয়ে চিন্তিত প্রায় প্রতিটি বাবা-মা। পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতক থেকে শুরু করে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর ঘুমের ধরণ ও সময়কালের বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। এই লেখায় আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনার শিশুর ঘুমের মান উন্নত করতে পারেন।
নবজাতকের ঘুম (০-৩ মাস)
নবজাতকেরা দিনে ১৪-১৭ ঘন্টা ঘুমায়, কিন্তু এই ঘুম অনেক ছোট ছোট অংশে বিভক্ত থাকে। তারা প্রতি ২-৪ ঘন্টা অন্তর জেগে উঠে খাবার জন্য। এই সময়ে দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝে না।
শিশুর ঘুম (৪-১১ মাস)
এই সময়ে শিশুরা রাতে বেশি ঘুমাতে শুরু করে এবং দিনের ঘুম কমে আসে। তারা রাতে ১০-১২ ঘন্টা এবং দিনে ২-৩ বার ঘুমাতে পারে।
| বয়স (মাস) | রাতের ঘুম (ঘন্টা) | দিনের ঘুম (ঘন্টা) |
|---|---|---|
| ৪-৫ | ১০-১২ | ৩-৪ |
| ৬-৮ | ১১-১২ | ২.৫-৩.৫ |
| ৯-১১ | ১১-১২ | ২-৩ |
এক থেকে দুই বছর বয়সী শিশুর ঘুম
এই বয়সে শিশুরা রাতে ১১-১৪ ঘন্টা ঘুমায় এবং দিনে একবার বা দুইবার ১-২ ঘন্টা ঘুমাতে পারে।
ঘুমের রুটিন তৈরি করুন
একটি নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন শিশুর ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন একই সময়ে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। একটা নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করতে পারেন, যেমন গোসল, গল্প বলা, লোরি গাওয়া।
ঘুমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন
অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা ঘর ঘুমের জন্য আদর্শ। ঘরে তেজ আলো এবং শব্দ না থাকলে শিশু ভালো ঘুমাতে পারবে।
দিনের বেলায় পর্যাপ্ত সক্রিয়তা নিশ্চিত করুন
দিনের বেলা শিশুকে খেলতে দিন এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করুন। এতে করে রাতে তারা ভালো ঘুম পাবে।
আরামদায়ক পোশাক ও বিছানা ব্যবহার করুন
শিশুর আরামের জন্য নরম এবং আরামদায়ক পোশাক ও বিছানা ব্যবহার করুন।
সঠিক পরিচর্যা ও সচেতনতার মাধ্যমে শিশুর ঘুমের সমস্যা দূর করা সম্ভব। মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশু আলাদা এবং তাদের ঘুমের প্রয়োজন ও আলাদা। যদি আপনার শিশুর ঘুম নিয়ে বেশি চিন্তিত হন, তাহলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


