রেশম চাষের প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল রেশম পোকার ডিমের বিকাশ। এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং বেশ কিছু পরিবেশগত ও জৈবিক কারণের উপর নির্ভরশীল। ডিমের সুষ্ঠু বিকাশ রেশম উৎপাদনের মান ও পরিমাণ উভয়ই নির্ধারণ করে।
ডিম পাড়া এবং সংরক্ষণ
মা রেশম পোকা (মথ) পাতার নিচের পৃষ্ঠে ৩০০ থেকে ৫০০ টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো প্রাথমিকভাবে হালকা হলুদ বা ক্রিম রঙের হয়। ডিম পাড়ার পর সঠিক তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ১৮-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৭০-৮৫% আর্দ্রতা ডিমের বিকাশের জন্য উপযুক্ত। শীতকালে ডিম সংরক্ষণের জন্য ঠান্ডা তাপমাত্রা (২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ব্যবহার করা হয়।
ডিমের বর্ণ পরিবর্তন
ডিম পাড়ার পর ক্রমান্বয়ে তার রঙ পরিবর্তিত হয়। ডিমের রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভ্রূণের বিকাশের ধাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
| ডিমের রঙ | বিকাশের ধাপ |
|---|---|
| হালকা হলুদ/ক্রিম | নতুন পাড়া ডিম |
| ধূসর | বিকাশের প্রাথমিক ধাপ |
| গাঢ় ধূসর | বিকাশের মধ্যবর্তী ধাপ |
| স্লেট ধূসর/বেগুনি | ফুটতে প্রায় প্রস্তুত |
ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া
সঠিক তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় ১০-১২ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। বাচ্চাগুলো অত্যন্ত ছোট এবং কাঁচা পাতা খেতে শুরু করে। এই বাচ্চাগুলোকে "চিয়া" বলে।
রোগবালাই ও সতর্কতা
ডিমের বিকাশের সময় বিভিন্ন রোগবালাই এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ডিম সংরক্ষণের স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
রেশম পোকার ডিমের সুষ্ঠু বিকাশ রেশম উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। সঠিক পরিচর্যা এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডিম থেকে সুস্থ ও সবল বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব, যা পরবর্তীতে মানসম্মত রেশম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


